মেনু নির্বাচন করুন
পাতা

এক নজরে দক্ষিণ বেদকাশী

এক নজরে দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন পরিচিতিঃ

প্রথম অধ্যায়ঃ-                                                                              ০০- ০০

এক নজরে ইউনিয়ন পরিচিতি, ভূমিকা, ইউনিয়ন সৃষ্টির ইতিহাস, নামকরণ, সীমানা, আয়তন, লোক সংখ্যা, জনসংখ্যার ঘনত্ব, গ্রামের নাম ও সংখ্যা, হাটবাজার, ইউনিয়নের চেয়ারম্যানদের কার্যকালের তালিকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তালিকা, ইউনিয়নের প্রথম ম্যাট্রিকুলেশন পাশ ব্যক্তির পরিচয়।

দ্বিতীয় অধ্যায়ঃ-                                                                 ০০-০০

ইউনিয়নের গ্রাম সমূহের বিবরণ।

তৃতীয় অধ্যায়ঃ-                                                                 ০০-০০

ইউনিয়নের কৃতী সন্তানদের পরিচিতি।

 

প্রথম অধ্যায়ঃ

এক নজরে ইউনিয়ন পরিচিতি

 

ইউনিয়নের নাম           ঃ দক্ষিণ বেদকাশী।

১। আয়তন                ঃ১৬.২৪ বর্গ কিলোমিটার।

২। মোট লোক সংখ্যা    ঃ পুরুষঃ ১৪৩৯৭ মহিলাঃ ১৪৩০৩

৩। মোট ভোটার সংখ্যা  ঃ পুরুষঃ ৫৮৯২ জন    মহিলাঃ ৬২০৮ জন।

৪। জনসংখ্যার ঘণত্ব      ঃ প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৭১৬ জন।

৫। মৌজার সংখ্যা                  ঃ ০১ টি

৬। গ্রামের সংখ্যা                   ঃ ১২ টি

৭। হাট-বাজারের সংখ্যা  ঃ ০৩ টি

৮। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান         ঃ ক) মহাবিদ্যালয়                ঃ ০০ টি।

  খ) মাধ্যমিক ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ঃ ০২ টি।

  গ) মাদরাসা                                ঃ ০১ টি।

  ঘ) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়            ঃ ০৭ টি।

  ঙ) রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়             ঃ ০০ টি।

  চ) স্যাটেলাইট ও কমিউনিটি বিদ্যালয়   ঃ ০১ টি।

  ছ) এবতেদায়ী মাদ্রাসা                     ঃ ০১ টি।

  জ) শিক্ষার হার                            ঃ ৭৫.০৯

৯। ব্যাংক                  ঃ ০০টি

১০। পোষ্ট অফিস         ঃ ০২ টি, ক) জোড়শিং খ) চরামুখা।

১১। তহসিল অফিস      ঃ ০০।

১২। ক্লিনিক/স্বাস্থ্যকেন্দ্র   ঃ (ক) সরকারিঃ ০১ টি           (খ) বে-সরকারিঃ

১৩। ফরেষ্ট ষ্টেশন       ঃ ০১ টি

১৪। ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ি   ঃ ০১ টি

১৫। পুলিশ ফাঁড়ি          ঃ ০১ টি

১৬। কাষ্টম হাউস        ঃ ০১ টি

১৭। সমিতি (রেজিঃ)     ঃ ০৮ টি

১৮। কোষ্টগার্ড অফিস   ঃ ০১ টি

১৯। মসজিদ সংখা        ঃ ২৪ টি

২০। মন্দির সংখা         ঃ ১৫ টি

 

ভূমিকাঃ

          কয়রা উপজেলার ইউনিয়ন গুলোর মধ্যে দক্ষিণ বেদকাশী একটি ইউনিয়ন। এ ইউনিয়ন টি কয়রা উপজেলার তথা বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত। দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের পর শুধু নদী আর সুন্দরবন। এরপর রয়েছে বঙ্গোপসাগর। কয়রা উপজেলার ইউনিয়নের সংখ্যার দিক দিয়ে এটি সপ্তম। লোক সংখ্যা ও আয়তনের দিক থেকে ৬ষ্ঠ স্থান অধিকার করে আছে। ১ মৌজা ও ১২ টি গ্রাম নিয়ে গঠিত এ ইউনিয়ন। শিক্ষা-দীক্ষা, কৃষ্টি কলাচারের দিক থেকে অন্যান্য ইউনিয়নের তুলনায় এ ইউনিয়নটি কিছুটা পিছিয়ে আছে।

ইউনিয়ন সৃষ্টির ইতিহাসঃ

১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দের পূর্বে দক্ষিণ বেদকাশী স্বতন্ত্র কোন ইউনিয়ন হিসেবে চিহ্নিত ছিল না। এ ইউনিয়নের বর্তমান ভূ-খন্ড ছিল উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের অন্তর্ভূক্ত।                 

১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দে এ ইউনিয়নটি উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের মধ্য হতে আলাদা হয়ে একটি স্বতন্ত্র ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। সেদিনের সেই ভূ-খন্ড নিয়ে স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে আজও অবাধ স্বীয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনিক কাজ কামের বিভিন্ন সুবিধার দিক বিবেচনা করেই উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের মধ্য হতে এ ইউনিয়নকে পৃথকীকরণ করা হয়। পৃথক ইউনিয়ন করার ব্যপারে যিনি বেশী উদ্যেগী ছিলেন তিনি হলেন জনাব মোল্ল্যাৃ ইউসুফ আলী। তিনি দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন সৃষ্টির শুরু থেকে দীর্ঘ এক টানা যাবৎ ১০ (দশ) বছর সুনামের সাথে চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব পালস করেন। তার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের সময়কাল ছিল ১৯৭৩-১৯৮৩ খ্রিঃ পর্যন্ত। ইউনিয়নটি পৃথকীকরণ করেন তৎকালীন আওয়ামী লীগের বিশিষ্ট্য রাজনীতিবিদ জনাব আব্দুর গফুর (এম,পি) ও জনাব এ্যাডভোকেট স,ম,বাবর আলী (এম,পি)।

সীমানাঃ

          দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন বাংলাদেশের তথা কয়রা উপজেলার সর্ব দক্ষিণে এবং শেষ প্রান্তে অবস্থিত। এর দক্ষিণে পূর্ব-পশ্চিম দিক বরাবর বয়ে গেছে বিশাল নদী ‘‘আড়পাংগাশিয়া’’। তৎসংলগ্ন সুন্দরবন এবং এর আরও দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। উত্তরে শাকবাড়িয়া নদী এবং তৎসংলগ্ন সুন্দরবন ও উত্তর বেদকাশী ইউনিয়ন অবস্থিত। পূর্বে শাকবাড়িয়া নদী ও তৎসংলগ্ন সুন্দরবন। পশ্চিমে কপোতাক্ষ নদ এবং তার পারে সাতক্ষীরা জেলার, শ্যামনগর উপজেলা। দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের তিন দিক নদী ও সুন্দরবন বেষ্টিত।

আয়তনঃ

কয়রা উপজেলার ইউনিয়ন গুলোর তুলনায় এটি  একটি ছোট্ট ইউনিয়ন। এর আয়তন -২৪ .১৬ বর্গ কিলোমিটার।

লোক সংখ্যাঃ

          দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন জন বা লোক সংখ্যার দিক থেকে এর স্থান ৬ষ্ঠ। এ ইউনিয়নের মোটলোক সংখ্যা=২৮,৭০০ জন। তম্নধ্যে পুরুষের সংখ্যা মোট=১৪৩৯৭ জন এবং মহিলার সংখ্যা মোট = ১৪৩০৩ জন।

জন সংখ্যার ঘনত্বঃ

                   দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের আয়তন ও লোক সংখ্যা কম। তারপরও দেখা যায় এখানে প্রতি বর্গ কিলোমিটার ১৭৬৭.২৪ জন লোক বাস করে।

গ্রামের সংখ্যাঃ

               দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের আয়তন কম হলেও এ ইউনিয়নে গ্রামের সংখ্যা ১২ টি। যথা- (১) গোল খালী (২) ঘড়িলাল (৩) মাটিয়া ভাঙ্গা (৪) আংটিহারা (৫) ছোট আংটিহারা (৬) জোড়শিং (৭) পাতাখালী (৮) দক্ষিণ বেদকাশী (৯) চরামুখা (১০) মেদের চর (১১) বীনা পানি (১২) হলুদ বুনিয়া।

 

হাট ও বাজারঃ

             দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নে বেশ কয়েকটি হাট বাজার রয়েছে। এর মধ্যে ঘড়িলাল ও জোড়শিং অন্যতম। ঘড়িলাল স্থানটি কপোতাক্ষ নদের উৎপত্তি স্থলে অবস্থিত। আড়পাংগাশিয়া নদী থেকে কপোতাক্ষ নদের উৎপত্তি। আর এরই পাশে ঘড়িলাল গ্রামের বিখ্যাত হাট ও বাজার ঘড়িলাল। ঘড়িলাল গ্রামের ঘড়িলাল এর নাম করনের সঠিক ইতিহাস পাওয়া যায়নি। তবে কথিত আছে যে, ঘড়িয়াল তেকে ঘড়িলাল নামের উৎপত্তি। কুমিরের মতন দেখতে একটি অদ্ভুত রকমের প্রাণী হচ্ছে ঘড়িয়াল বা মেছ কুমির। ঘড়িয়ালের মাথা কুমিরের মাথার থেকে চওড়া ও লম্বাটে। সম্ভাবতঃ এই ঘড়িয়াল থেকে পরবর্তীতে ঘড়িলাল নাম করণ করা হয়েছে।

          ঘড়িলাল বাজারটি কপোতাক্ষ নদের তীরে অবস্থিত। এখানে বহু বসতি দোকান-পাট রয়েছে। এই সব দোকানে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র ক্রয় বিক্রয় হয়। তা ছাড়া এখানে সপ্তাহে ২ দিন হাট বসে। অর্থাৎ সপ্তাহে প্রতি শুক্র ও সোমবারে হাট বসে। এসব হাটে কাঁচা তারি-তরকারী সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রবাদি পাওয়া যায় এবাজারে ও হাট বারে বেশ লোক সমাগম ঘটে।

          এ ইউনিয়নের জোড়শিং নামক বাজার টি ও বেশ বড়। এখানে খুলনা থেকে সরসারি লঞ্চ যাতায়াত করে। সুদীর্ঘ বছর যাবৎ এ লঞ্চ চলাচল করে আসছে। সুন্দর বন থেকে ধৃত নানা প্রজাতির মাছ এ জোড়শিং বাজারের বিভন্ন ডিপুর মাধ্যমে লঞ্চ যোগে খুলনা সহ দেশের নানা স্থানে রপ্তানী করা হয়। প্রতিদিন লক্ষ লক্ষ টাকার মাছ সহ অন্যান্য জিনিস পত্র আমদানী রপ্তানী করা হয়। সে হিসেবে জোড়শিং বাজাকে একটি মোকাম হিসেবে ধরা হয়। শুধু মাছ নয়। সুন্দরবনের কাঠ, গোলপাতা মধু ও মৎস্য সহ বিভিন্ন জিনিস রপ্তানী করা হয়। এখান থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫-৭ মেঃ টন গলদা, বাগদা সহনানা প্রজাতির মাছ ও কাঁকড়া দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানী করা হয়। প্রচুর শুটকী মাছ ও রপ্তাসী হয়। বেশ কিছু বসতি দোকানুপাট রয়েছে এ বাজারে। সপ্তাহে ২ দিন হাট বসে এখানে। যথা- (১) শুক্র ও (২) সোমবার। এ হাটে ও বাজারে যেমন লোক সমগম হয়, তেমনি বেচা-কেনাও হয় প্রচুর। সুন্দর বনের অভ্যন্তরে কর্মজীবী মানুষ তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র এখান থেকে ক্রয় করে। বাজারের উপর অবস্থিত ১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১টি পোষ্ট অফিস।

          এরপর ধরা যায় আংটিহারা গ্রামের হাট। এখানেও প্রতি সপ্তাহে ২ দিন হাট বসে। রবি ও বৃহস্পতিবরে এ স্থানে হাট হয়। এ হাটে প্রচুর লোক জনের ভীড় জমে। বিশেষ করে এ হাট-বাজার গুলো সুন্দর বনের একেবারে ধারে অবস্থিত হওয়ায় এখানে নিদিষ্ট দিনে সীমিত জিনিস পত্রের বাইরে কিছু পাওয়া যায় না। এরপর ছোট আংটিহারা নামক গ্রামের খাল ধারে সপ্তাহে ২ দিন হাট বসে। এ হাট দু’টি যথাক্রমে শনি ও বুধবারে হয়।

 

ইউনিয়নের চেয়ারম্যানগণের নামের তালিকাঃ

          দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ণ সৃষ্টির প্রারম্ভ থেকে বিভিন্ন সময়ে যারা ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছেন তাদের তালিকাঃ

ক্রমিক নং

নাম

পদবী

হতে

পর্যন্ত

০১

জনাব মোল্যা ইউছুপ আলী

রিলিফ চেয়ারম্যান

১৯৭১

১৯৭২

০২

জনাব মোল্যা ইউছুপ আলী

চেয়ারম্যান

১৯৭৩

১৯৭৬

০৩

জনাব মোল্যা ইউছুপ আলী

চেয়ারম্যান

১৯৭৭

১৯৮৩

০৪

টি,এম, দিদারুল অলম

চেয়ারম্যান

১৯৮৪

১৯৮৮

০৫

টি,এম, দিদারুল অলম

চেয়ারম্যান

১৯৮৮

১৯৯১

০৬

টি,এম, দিদারুল অলম

চেয়ারম্যান

১৯৯২

১৯৯৪

(১৯৯৪ খ্রিস্টাব্দের ১০ মার্চ তারিখে দক্ষিণ বেদকাশীর ঘড়িলাল বাজারে রাতের বেলায় আততায়ীর হতে নিহত হন।)

ক্রমিক নং

নাম

পদবী

হতে

পর্যন্ত

০৭

জনাবা নাছিমা আলম

 উপ-নির্বচনে চেয়ারম্যান

১৯৯৪

১৯৯৭

০৮

জনাব এ,টি,এম, মঞ্জুরুল আলম

চেয়ারম্যান

১৯৯৭

২০০২

০৯

জি,এম, শামছুর রহমান

চেয়ারম্যান

২০০৩

২০১১ (এপ্রিল)

১০

এম,এম, আব্দুল মান্নন

চেয়ারম্যান

২০১১ (মে )

২০১৬

১১জি, এম, কবি শামছুর রহমানচেয়ারম্যান২০১৬ 
 

 

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহঃ

          দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সর্ব মোট ১২টি। এর মধ্যে মাধ্যমিক বিদ্যালয় ০২ টি, দাখিল মাদ্রাসা ০২টি, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ০৫টি, বে-সরকারি রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয় ০২টি, কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় ০১টি । নিম্ন প্রদত্ত তালিকা-

ক্রঃ নং

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম

স্থাপিত

০১

দক্ষিণ বেদকাশী মাধ্যামিক  বিদ্যালয়

১৯৬২ খ্রিস্টাব্দ

০২

দক্ষিণ বেদকাশ নিম্ন মাধ্যামিক বালিকা  বিদ্যালয়

২০০২ খ্রিস্টাব্দ

০৩

সুন্দরবন ছিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসা

১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দ

০৪

বীনা পানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

১৯৭৩ খ্রিস্টাব্দ

০৫

জোড়শিং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

১৯৪৩ খ্রিস্টাব্দ

০৬

আংটিহারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

১৯৪০ খ্রিস্টাব্দ

০৭

গোলখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ

০৮

দক্ষিণ বেদকাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়

১৯৪৫ খ্রিস্টাব্দ

০৯

ঘড়িলাল রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়

১৯৮০ খ্রিস্টাব্দ

১০

ছোট আংটিহারা সুন্দরবন আদর্শ রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়

১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দ

১১

খাশিটানা কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়

৯৯৫  খ্রিস্টাব্দ

১২

পাতাখালী এবতেদায়ী মাদ্রাসা

১৯৮৩  খ্রিস্টাব্দ

 

ইউনিয়নের প্রথম ম্যাট্রিকুলেশন পাশ

জন্মঃ বাবু অনুকুল চন্দ্র মন্ডল ১৯১০ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান দক্ষিণ বেদকাশী (তৎকালীন বেদকাশী) ইউনিয়নের বীনাপানি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম মৃত্যু লক্ষ্মী নারায়ন মন্ডল, মাতার নাম- মৃত্যু শশী রাণী মন্ডল।

 

শিক্ষা জীবনঃ

          তৎকালীন সময়ে এতদাঞ্চলে প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকার কারণে গ্রামের মক্তব বা পাঠশালায় প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করেন। এরপর বর্তমান সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর কুশুলিয়া হাইস্কুল থেকে ১৯২৮ খ্রিস্টাব্দে ম্যাট্রিকুলেশন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তখন পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন টাকি। তারপর তিনি ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে কলিকাতা ডারহাম হোমিও মেডিকেল কলেজ থেকে ডি,এইচ, এম হোমিওপ্যাথী  পাশ করেন।

 

কর্ম জীবনঃ১৯৩১ খ্রিস্টাব্দে তিনি বেদকাশী কাছারী বাড়ি পোষ্ট অফিসের পোষ্ট মাষ্টারের পদে যোগদান করেন। একই সাথে পোষ্ট মাষ্টারের দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি বেদকাশী মাইনর স্কুলের শিক্ষকতার দায়িত্ব ও পালন করেন। এরপর ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারী করণ করার পর তিনি হরিহরপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদে যোগদান করেন। দীর্ঘ কয়েক বছর সুনামের সাথে এই দায়িত্ব পালন করার পর ১৯৭৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি অবসর গ্রহণ করেন।

          বর্তমান কপোতাক্ষ মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি তারই দানকৃত জমির উপর প্রতিষ্ঠিত। দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের প্রথম ম্যাট্রিকুলেশন পাশ ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন ব্যক্তি জীবনের ৯০ (নববই) টি বছর বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণ মূলক কর্ম সমাপনের পর ২০০০ খ্রিস্টাব্দের ৫ অক্টোবর তারিখে নিজ বাস ভবনে দেহ ত্যাগ করেন।

 

১) আংটিহারা গ্রামঃ

          এ গ্রামটি দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের সর্ব দক্ষিণ-পূর্ব সীমান্তে অবস্থিত। এ গ্রামের পূর্ব পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শাকবাড়িয়া নদী। কয়রা উপজেলার সর্ব দক্ষিণে অবস্থিত আড় পাঙ্গাসিয়া নামক বিখ্যাত নদী। এই আড়পাঙ্গাসিয়া নদী থেকে শাকবাড়িয়া নদীর ঊৎপত্তি। শাকবাড়িয়া নদীটি আড়পাঙ্গাসিয়া থেকে উৎপত্তি হয়ে উপজেলার পূর্ব পাশ দিয়ে সুন্দরবন ও লোকালয়কে বিভক্ত করে দক্ষিণ প্রান্ত থেকে উত্তর সীমান্ত পর্যন্ত চলে গেছে। শাকবাড়িয়া নদীর কূল বরাবর উত্তর দক্ষিণ লম্বা আংটিহারা গ্রাম। ১৮৯৪ খ্রিস্টাব্দে এছম শেখ সাতক্ষীরা জেলার কাশীমাড়ী গ্রাম থেকে এ আয়টিহারা গ্রামে এসে (সর্ব প্রথম) জঙ্গল কেটে আবাদ শুরু করে। এছম শেক, ফটিক গাজী সহ মোট ৮ (আট) ঘর লোক এখানে এসে জঙ্গল কেটে বসবাস আরম্ভ করে। আংটিহারা গ্রামে সর্ব প্রথম শেখ বংশ আধিপত্য বিস্তার করায় এই শেখ বংশের নামানুসারে নদীর নাম হয় শেখবড়িয়া। পরে শেখ বাড়িয়া থেকে হয় শাকবাড়িয়া নদী।

          আংটিহারা গ্রামের লোক সংখ্যা মোট ২২১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১১২০ জন এবং মহিলা ১০৯০ জন। মোট ভোটার সংখ্যা ১৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮৯৫ জন এবং মহিলা ৮৯৮ জন। গ্রামের লোক সংখ্যার সধ্যে বেশীর ভাগ মুসলমান।

          যদিও আংটিহারা গ্রামটি কয়রা উপজেলার সর্ব দক্ষিণে সুন্দরবনের কোলে প্রত্যন্ত এলাকায় অবস্থিত, তথাপি এর একটা বিশেষ গুরুত্ব আছে। কেননা বাংলাদেশের দক্ষিণাংশ দিয়ে সাগর বা নদী পথে এ দেশে জাহাজ প্রবেশের একমাত্র পথ এ আংটিহারা নামক স্থান। বিশেষ করে ভারত থেকে সুন্দরবনের মধ্য দিয়ে যে সমস্ত জাহাজ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে মোংলা বন্দরে আসে, তাদের একমাত্র প্রবেশ পথ এই আংটিহারা। সেহেতু এখানে রয়েছে একটি কাষ্টম হাউজ (চেকপোষ্ট)। বাংলাদেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৬ খ্রিস্টাব্দে এ চেকপোষ্ট স্থাপিত হয়। এ পথ দিয়ে গমনাগমন জাহাজ গুলোকে এখানেই চেক করা হয়।

          এ আংটিহারা গ্রামে আই,বি, (International Bangla) নামে একটি অফিস আছে। এ অফিসটি এখানে স্থাপিত হয় ১৯৬২ খ্রিস্টাব্দে। তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের প্রেসিডেন্ট ফিল্ড মার্শাল আইউব খাঁন এই আই,বি, অফিসটি উদ্বোধন করেন।

          আংটিহারা গ্রামে আরও আছে R.O.P ক্যাম্প। অর্থাৎ River observation police (নৌ টহল পুলিশ) ফাঁড়ি। এ পুলিশ ফাঁড়ির মাধ্যমে জনদস্যু ও বনদস্যু সহ বিভিন্ন দস্যুদের দমন করা হয়। তাছাড়া সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষার কাজেও নিয়োজিত হয় এ ক্যাম্পের পুলিশ। ১৯৭৮ খ্রিস্টাব্দে এখানে এই নৌ পুলিশ ফাঁড়িটি স্থাপিত হয়।        

          এ আংটিহারা গ্রামে আরও রয়েছে কোষ্ট গার্ডের একটি ভাসমান ফাঁড়ি। সুন্দরবন প্রহরার দায়িত্বে নিয়োজিত এ কোষ্ট গার্ড ফাঁড়ি। বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে সুন্দরবন এলাকায় এ কোষ্ট গার্ড অফিস (নিবাস) স্থাপনের জন্য এখৃানে এই আংটিহারাতেই জমি বরদ্দ করা হয়। এখানে এটি উদ্বোধন করেন খুলনা-০৬, কয়রা-পাইকগাছার মাননীয় জাতীয় সংসদ সদস্য জনাব আলহাজ্ব অধ্যক্ষ শাহ মুহাঃ রুহুল কুদ্দুস (এম,পি)। এর স্থাপিত ২০০৩ খ্রিস্টাব্দ।

          এখানে আরও রয়েছে ১টি পাইলট অফিস। বিভিন্ন দেশ থেকে যে সমস্ত জাহাজ এখান দিয়ে যাতায়ত করে, ত দের  বা সে গুলোর জন্য রয়েছে এটি স্বতন্ত্র পাইলট অফিস। এটি স্থাপিত- ১৯৭৮ খ্রিঃ।

          কয়রা উপজেলার তথা আংটিহারা গ্রামের এ স্থানটি খুবই গুত্বপূর্ণ। এখানে বেশ কয়েকটি উল্লেখ যোগ্য অফিস তথা তার কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শান্তি রক্ষার কাজে নিযুক্ত বাহিনী অবস্থানরত। কিন্তু এ সমস্ত অফিস গুলো যে ভাবে রাখা বা সরকারের তদারকি করা দরকার তা হয় না। এরপর গত ২৫ মে /২০০৯ তারিখের প্রলয়ংকরী ঘূণিঝড় আইলায় যেভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তা এখনো কোন ভাবে কাটিয়ে উঠতে পারেনি। নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে দেখি পুলিশ সদস্যরা কক্ষের ভেতর মাচান করে বসবাস করছে। জোয়ারের পানিতে ভবনের মেঝে ডুবে যায়, এমনকি শোয়ার খাট পর্যন্ত পানিতে ডুবে যায়। তাছাড়া লোনা হাওয়ায় সব অফিস ভবন গুলো দিন দিন বাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে।

          এখানের এ সমস্ত অফিস গুলোর মধ্যে কয়েকটি প্রথমে ছিল জোড়শিং বাজারের পাশে। বিশেষ করে কাষ্টম অফিস ও নৌ পুলিশ ফাঁড়ি এবং পাইলট অফিস সেখানে ছিল। পরে ১৯৮৬ খ্রিস্টাব্দে এ অফিস গুলো স্থানান্তরিত হয়ে আংটিহারা গ্রামে স্থাপিত হয়।

          আংটিহারা গ্রামের পূর্ব দিকে অর্থাৎ শাকবাড়িয়া নদীর পূর্ব পারে সুন্দরবনের ধারে অবস্থিত খাশীটানা পরেষ্ট ফাঁড়ি (অফিস)। স্থাপিত-                     খ্রিঃ।  এ ফরেষ্ট অফিসটি দোতলা (সাইক্লোন সেন্টার)।

          আংটিহারা গ্রামের অধিকাংশ লোক জেলে- বাউয়ালী, মৎস্যজীবী ও কৃষক। বেশীরভাগ লোক সুন্দরবনের উপর নির্ভরশীল। এ গ্রামে রয়েছে (১) আংটিহারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থাপিত- ১৯৪৫ খ্রিঃ। এ বিদ্যালয়টি দোতলা সাইক্লোন সেন্টার। কিন্তু দুঃখের বিষয় ২০০৯ খ্রিস্টাব্দের ২৫ মে আইলায় দীর্ঘ নদী ভাঙন হওয়ার কারণে এ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বর্তমানে সম্পূর্ণ নদীগত। আইলায় জোড়শিং বাজারের পশ্চিম পাশে হারেজ খালি নামক স্থানে বিশাল ওয়াপদা ভাঙনের সৃষ্টি হয়, যা এখনো বাঁধা সম্ভব হয়নি। দীর্গ প্রায় তিন বছর ভাঙনের ফলে জোয়ার ভাটা ওঠা নামা করায় দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের ভেতরে বড় বড় খাল সৃষ্টি হয়েছে। আর এ রকম একটি খাল সৃষ্টি হয়েছে এ বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে। যে কারণেই আজ এ বিদ্যালয়টি নদী ভাঙনের কবলে পড়ে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে।  (২) খাশিটানা  উদয়ন কমিউনিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থাপিত- ১৯৮২ খ্রিঃ। এ বিদ্যালয়টি পাকা টিন সেড।

          এ গ্রামে মসজিদ যথা, (১) আংটিহারা পুলিশ ক্যাম্প জামে মসজিদ, স্থাপিত- ১৯৭৯ খ্রিঃ। মসজিদটি পাকা টিন সেড। (২) আংটিহারা বায়তুর রাহেলা জামে মসজিদ, স্থাপিত- ১৯৬৪ খ্রিঃ। এ মসজিদটি ও পাকা টিন সেড। (৩) আয়টিহারা বায়তুল আকরাম জামে মসজিদ, স্থাপিত- ১৯৯০ খ্রিঃ। এ মসজিদটি ও পাকা টিন সেড যুক্ত ছিল। দুঃখের বিষয় আইলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মত এ মসজিদটি ও সম্পূর্ণ ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে। এ মসজিদের অবস্থান ছিল আংটিহারা খালের ধারে। ফলে আইলায় ওয়াপদা ভেঙে অদ্য তিন বছর যাবৎ ইউনিয়নের ভেতর লবণ পানি জোয়ার-ভাটা খেলার কারণে উক্ত খাল ভাঙনের জন্য মসজিদটিও ভেঙে সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে।

          মন্দিরঃ যথা, (১) আংটিহারা সার্বজনীন হরি মন্দির, স্থাপিত- ১৯৩০ খ্রিঃ। (২) আংটিহা সার্বজনীন কালী মন্দির, স্থাপিত-২০০১ খ্রিঃ। উক্ত মন্দির ২টা কাঁচা।

এ গ্রামের সমিতিঃ ১) আংটিহারা যুব সমবায় সমিতি লিঃ। রেজিঃ নং- ৩৯ কে, ০১/০৬/১৯৯৮খ্রিঃ।

 

২) ছোট আংটিহারা গ্রামঃ

          দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নে আয়টিহারা নামে ২টি গ্রাম। গ্রাম দুটিকে পৃথক করে বুঝানোর জন্য একটির নাম করণ করা হয়েছে ছোট আংটিহারা। তাই বলে অপরটির নাম বড় আংটিহারা রাখা হয়নি। অর্থাৎ একটির নাম আংটিহারা এবং অপরটির নাম ছোট আংটিহারা। আংটিহারা গ্রামের পরেই অবস্থান এ ছোট আংটিহারা গ্রামের।

          আয়টিহারা গ্রামের নাম করণ সম্বন্ধে লিখিত কোন তথ্য, প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে লোক মুখে জানা যায় যে, এ গ্রামে সর্ব প্রথম যখন বন কেটে আবাদ করা হয়, তখন বন কাটার সময় জনৈক ব্যক্তির হাতের আংটি হারিয়ে যায়। সেই থেকে আংটিহারা কে কেন্দ্র করেই এ গ্রামের নাম করণ করা হয় আংটিহারা গ্রাম। 

          এ গ্রামের লোক সংখ্যা মোট- ১২৭৩ জন। তন্মধ্যে পুরুষ ৬৩৫ জন এবং মহিলা ৬৩৮ জন। ভোটার সংখ্যা মোট ৩৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১৮০ জন এবং মহিলা ২১৬ জন। লোক সংখ্যার মধ্যে অধিকাংশ মুসলমান।

          এ গ্রামে রয়েছে (১) ছোট আংটিহারা বে সরকারি রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থাপিত- ১৯৯৫ খ্রিঃ। এ বিদ্যালয়টি দো’তলা ভবন (সাইক্লোন সেন্টার)। এছাড়া এ গ্রামে আর কিছু নেই।

 

৩) জোড়শিং গ্রামঃ

          জোড়শিং গ্রামটি আংটিহারা গ্রামের উত্তর দিকে অবস্থিত। গ্রামটি উত্তর- দক্ষিণ লম্বা। গ্রামের উত্তর মাথায় শাকবাড়িয়া নদী। নদীর ধারে ওয়াপদার রাস্তা। এখানে একটি স্লুইজ গেট আছে। স্লুইজ গেট থেকে জোড়শিং গ্রামের সামনে দিয়ে একটি খাল প্রবাহিত হয়েছে। উক্ত খালের দুপারেই গ্রাম। গ্রামের উত্তর মাথায় জোড়শিং বাজার বা হাট। এখানে ওয়াপদার রাস্তার নিচে সপ্তাহে ২দিন র্অথাৎ সোম ও শুক্রবার হাট বসে। এ ছাড়া প্রতিদিন বাজার বসে। অনেক গুলো বসতি দোকান আছে। সুন্দরবনের মধ্যে কর্মজীবী- বাওয়ালী, মউয়ালী, মৎস্যজীবী ও অন্যান্য পেশার লোকজন সহ ফরেষ্ট ষ্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ ও এখানে এ বাজারে বা হাটে আসে তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র কেনা-কাটার জন্য।

          জোড়শিং গ্রামের নাম করণের ক্ষেত্রে জনশ্রুতিতে যা জানা যায়, জোড়শিং গ্রামের মধ্য দিয়ে একটি খাল দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে চলে গেছে। উক্ত খালের মাথায় যেয়ে খালটি দুভাগে বিভক্ত হয়ে দু’দিকে চলে গেছে। খালটির মাথা এমন ভাবে ভাগ হয়ে গেছে দেখলে ঠিক যেন মনে হয় গরু বা মহিষের জোড়া শিং এর মতন। আর অবিকল জোড়া শিং এর মত দখায় বলে এই নামানুসারে গ্রামের নাম করণ হয় জোড়শিং র্অথাৎ জোড়াশিং থেকে জোড়শিং। এ গ্রামটি দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের উত্তর সীমানায় অবস্থিত।        

          এ গ্রামের সর্ব প্রথম জমিদার দেবেন্দ্রনাথ সরকার ভারতের রাঁচী থেকে এখানে আসেন। তিনি এখানে জঙ্গল কেটে আবাদ করার জন্য রাঁচী থেকে আদিবাসী বা মুন্ডা  বাঁকা সরদারের নেতৃত্বে কিছু লোক (মুন্ডা সম্প্রদায়) নিয়ে আসেন। তারপর তাদের দ্বারা এখানে আবাদ পত্তন শুরু হয়। জোড়শিং বাজারের পশ্চিম দিকে কিছুদূরে অর্থাৎ পাতাখালী গ্রামের পূর্ব মাথায় ছিল কাছারী বাড়ি (শাকবাড়িয়া নদীর পাশে ছিল এ কাছারী বাড়ি)। বর্তমান তা নদীগত হয়ে গেছে। এই কাছারীতে জমির কর-খাজনা দিত অত্র এলাকার জমিদারের প্রজারা।     

          জোড়শিং গ্রামের লোক সংখ্যা মোট ৩৯৯৩ জন। তন্মধ্যে পুরুষের সংখ্যা ১৯৪৭ জন এবং মহিলার সংখ্যা ২০৪৬ জন। ভোটার সংখ্যা মোট ২৫৪৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১২৪৭ জন এবং মহিলা ১২৯৮ জন। জনসংখ্যার মধ্যে প্রায় সব মুসলমান।

          পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, জোড়শিং গ্রামে একটি বড় বাজার আছে। এ বাজারটিকে একটি মোকাম ও বলা যায়। প্রতিদিন সুন্দরবন থেকে এ বাজারে আসে লাখ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। এর মধ্যে বেশী মূল্যের মাছ যেমন, বাগদা ও গলদা চিংড়ী মাছ এবং কাঁকড়া। এছাড়া এখানে আসে সুন্দরবনের কাঠ, গোলপাতা, মধু ইত্যাদি। এগুলো এখান থেকে লঞ্চ ও ট্রলার যোগে দেশের ও দেশের বাইরে বিভিন্ন স্থানে রপ্তানী হয়।

জোড়শিং গ্রামের জোড়শিং বাজারের পাশেই অবস্থিত জোড়শিং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। স্থাপিত- ১৯৪৩ খ্রিঃ। এ বিদ্যালয়টি দো’তলা (সাইক্লোন সেন্টার)। এ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দিবা রাতে শিক্ষা দান করা হয়। সাধারণ শিক্ষক ছাড়াও তিনজন প্যারা (অতিরিক্ত সময়ের জন্য) শিক্ষক নিযুক্ত করা হয়। এখানে ভাল ভাল লেখকের কয়েকশত বই আছে। বাজারের পাশেই রয়েছে জোড়শিং পোষ্ট অফিস, স্থাপিত- ১৯৬৮ খ্রিঃ।

এ গ্রামের মসজিদ- যথা, (১) জোড়শিং গাজী বাড়ি জামে মসজিদ, স্থাপিত-১৯৩৬ খ্রিঃ। মসজিদটি পাকা টিন সেড।  জোড়শিং বাজার থেকে অল্প দক্ষিণে ভেতরে হাজী তাছরুদ্দীন গাজীর বাড়িতে। (২) জোড়শিং সুন্দরবন জামে মসজিদ। স্থাপিত- ১৯৯১ খ্রিঃ। এ মসজিদটি জোড়শিং বাজার থেকে অল্প দূরে পূর্ব দিকে। এটিও পাকা টিন সেড। (৩) জোড়শিং আলফেসানী জামে মসজিদ, স্থাপিত- ২০০১ খ্রিঃ। মসজিদটি কাঁচা। (৪) জোড়শিং আল আরাফাত জামে মসজিদ, স্থাপিত-২০০৭ খ্রিঃ। এ মসজিদটি ও কাঁচা।

মন্দির যথা, (১) জোড়শিং সার্বজনীন শিব মন্দির, স্থাপিত- ১৯৮০ খ্রিঃ। (২) জোড়শিং সার্বজনীন সতী মায়ের মন্দির, স্থাপিত- ১৯৯০ খ্রিঃ। (৩) জোড়শিংসার্ব জনীন কালী মন্দির, স্থাপিত ১৯৮৭ খ্রিঃ। জোড়শিং সার্বজনীন দূর্গা মন্দির, স্থাপিত- ২০০৪ খ্রিঃ। এ মন্দিরটি তৈরীর পেছনে দীপক বাবুর অনেক অবদান রয়েছে উক্ত মন্দির গুলো সব কাঁচা ঘর।

এ গ্রামের সমিতিঃ (১) জোড়শিং কৃষক সমবায় সমিতি লিঃ। রেজিঃ নং-১৫কে, ০৬/০৬/১৯৮৮। (২) জোড়শিং রংধনু যুব সমবায় সমিতি লিঃ। রেজিঃ নং- ১২ কে, ২১/০৩/২০০০।

 

৪) পাতাখালী গ্রামঃ

          পাতাখালী গ্রামটি জোড়শিং গ্রামের পশ্চিম দিকে অবস্থিত। গ্রামটি পূর্ব- পশ্চিম লম্বা। পাতাখালী গ্রামের নাম করণের সঠিক ইতিহাস পাওয়া যায় না। তবে জনশ্রুতিতে জানা যায় যে, এখানে এক সময় জঙ্গল ছিল। অর্থাৎ সুন্দরবনের অংশ বিশেষ। আর সম্ভবতঃ এ এলাকাতে শুধু পাতা ভরা ছিল। কারণ হিসেবে বলা যায়, সুন্দরবনের মধ্যে এক এক জায়গায় এক এক রকম গাছ পাওয়া যায়। দেখা যায় যেখানেগরান বন; সেখানে বেশ কিছু জায়গা জুড়ে শুধু গরান গাছ। আবার যেখানে কেওড়া বন, সেখানে অনুরুপ জায়গা জুড়ে শুধু কেওড়া গাছ। এমনি ভাবে হেতাল বন, হুদু বন, গোলপাতার বন ইত্যাদি। পাতাখালীতে ও অনুরুপ গোলপাতার বন ছিল বলে অনুমান করা হয়। এখানে শুধু গোল পাতা ছিল বলে গোল শব্দটি বাদ দিয়ে পাতা রাখা হয়েছে। আর এ কারনে এ গ্রামের নাম করণ করা হয়েছে পাতাখালী গ্রাম।

          গ্রামের লোক সংখ্যা মোট ৯৬৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৪৬৫ জন এবং মহিলা ৫০১ জন। ভোটার সংখ্যা ৫৭১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২৫৯ জন এবং মহিলা ৩১২ জন। গ্রামের লোক সংখ্যার সবাই মুসলমান।

          এখানে রয়েছে (১) পাতাখালী মোল্লাবাড়ি জামে মসজিদ, স্থাপিত- ১৯৩৩ খ্রিঃ। এ মসজিদটি (খুবই পুরাতন) পাকা ভবন। (২) পাতাখালী বায়তুল আমান জামে মসজিদ, স্থাপিত- ১৯৯৬ খ্রিঃ। মসজিদটি কাঁচা। (৩) পাতাখালী মোল্লা পাড়া হেফজখানা, স্থাপিত- ২০০০ খ্রিঃ। (৪) পাতাখালী এবতেদায়ী মাদ্রাসা, স্থাপিত- ১৯৯৪ খ্রিঃ। এ মাদ্রাসাটি কাঁচা।

          এ গ্রামের সমিতিঃ যথা, (১) পাতাখালী আদর্শ যুব সমবায় সমিতি লিঃ। রেজিঃ নং- ২৮৩ কে, ০৮/০২/২০০৯।

 

৫) দক্ষিণ বেদকাশী গ্রামঃ   

          এ গ্রামের নামানুসারে ইউনিয়নের নাম করণ। এ গ্রামটি ইউনিয়নের মাঝামাঝি স্থানে অবস্থিত। উত্তর-দক্ষিণ বরাবর লম্বা। গ্রামের লোক সংখ্যা ১৬৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮৬৭ জন এবং মহিলা ৭৯৭ জন। ভোটার সংখ্যা ১০৮৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ- ৫২৭ জন এবং মহিলা ৫৫৮ জন। এ গ্রামের লোক সংখ্যার মধ্যে অধিকাংশই মুসলমান।

           এ গ্রামে রয়েছে যথা, (১) দক্ষিণ বেদকাশী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, স্থাপিত- ১৯৬২ খ্রিঃ। এখানে এ বিদ্যালয়টিতে একটি একতলা বিশিষ্ট পাকা ভবন রয়েছে, একটি পাকা টিন সেড এবং একটি দোতলা সাইক্লোন সেন্টার আছে। এ বিদ্যালয় সংলগ্ন অবস্থিত (২) দক্ষিণ বেদকাশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থাপিত- ১৯৪৫ খ্রিঃ। এ বিদ্যালয়টি ও দো’তলা ভবন সাইক্লোন সেন্টার। এর অল্প দূর দক্ষিণ দিকে অবস্থিত (৩) সুন্দরবন ছিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসা, স্থাপিত- ১৯৭৪ খ্রিঃ। এখানে একটি পাকা টিন সেড ও একটি এক তলা পাকা ভবন রয়েছে। এ মাদ্রাসা থেকে প্রায় এক কিঃমিঃ দক্ষিণ দিকে অবস্থিত (৪) ঘড়িলাল বে- সরকারি রেজিঃ প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থাপিত- ১৯৮০ খ্রিঃ। এ বিদ্যালয়টি পাকা এক তলা ভবন। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে রয়েছে তিন তলা বিশিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স ভবন। তিন তলা ভবন নির্মাণ ২০০৬ খ্রিঃ। এরই অল্প দূরে উত্তর পাশে অবস্থানরত দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবন, দো’তলা নির্মাণ কাল ২০০৪ খ্রিঃ।

          মসজিদঃ (১) সুন্দরবন ছিদ্দিকীয়া জামে মসজিদ, স্থাপিত- ১৯৭৮ খ্রিঃ। মসজিদটি কাঁচা দেয়াল টিনের ছাউনী। এটি সুন্দরবন ছিদ্দিকীয়া দাখিল মাদ্রাসা সংলগ্ন।

মন্দিরঃ (১) ঘড়িলাল সার্বজনীন কালী মন্দির, স্থাপিত- ২০০৭ খ্রিঃ। (২) ঘড়িলাল সার্বজনীন বন বিবির মন্দির, স্থাপিত- ১৯৬৭ খ্রিঃ। উক্ত মন্দির ২টি

          এ গ্রামে একটি বিখ্যাত বাজার আছে। যার নাম ঘড়িলাল বাজার। এখানে উল্লেখ্য যে, দক্ষিণ বেদকাশী গ্রামের মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের নামের আগে ঘড়িলাল আসছে। তবুও এ গুলো দক্ষিণ বেদকাশী গ্রাম সীমানায় অবস্থিত। যা হোক ঘড়িলাল বাজারে সপ্তাহে ২ দিন হাট বসে। যথা, (১) শুক্রবার ও (২) সোমবার। বাজারটি বিখ্যাত নদ কপোতাক্ষের ধারে। এ বাজারে অনেক গুলো বসতি দোকান পাট আছে। এখানে প্রচুর মালামাল, কাঁচা তরি তরকারী সহ নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র কেনা বেচা হয়। এ হাট বাজার থেকে সুন্দরবনের পেশাজীবী, কর্মজীবী ও বন কর্মকর্তারা ও তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পত্র ক্রয় করে।

৬) গোলখালী গ্রামঃ

          গোলখালী গ্রামটি দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের দক্ষিণ সীমানায় অবস্থিত। অর্থাৎ এ গ্রামের দক্ষিণ পাশেই রয়েছে বিখ্যাত নদী আড়পাঙ্গাসিয়া। তারপর রয়েছে অবারিত জঙ্গল সুন্দরবন আর বঙ্গোপসাগর। গোখখালি গ্রামের নাম সম্বন্ধে জানা যায়, এখানে গোলপাতার বাগান ছিল। তাই সেই শুধু বা খালি গোলপাতা থাকার কারণে নাম করণ করা হয়েছে গোলখালী গ্রাম। গ্রামটি পূর্ব পশ্চিমে লম্বা।

          এ গ্রামের লোক সংখ্যা মোট ২৮৬৩ জন। তন্মধ্যে পুরুষ ১৪৪৫ জন এবং মহিলা মোট ১৪১৮ জন। ভোটার সংখ্যা মোট ১৬৯৪ জন। এর মধ্য পুরুষ ৮১৮ জন এবং মহিলা ৮৭৬ জন। লোক সংখ্যার মধ্যে সবাই মুসলমান হওয়ায় মন্দির নেই।

          এখানে রয়েছে (১) গোলখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থাপিত- ১৯৪৫ খ্রিঃ। বিদ্যালয়টি

মসজিদঃ (১) গোলখালী বায়তুন নূর জামে মসজিদ, স্থাপিত- ১৯৪০ খ্রিঃ। এ মসজিদটি পাকা টিন সেড। (২) গোলখালী বায়তুল আকছা জামে মসজিদ, স্থাপিত- ২০০২ খ্রিঃ। এ মসজিদটি পাকা টিন সেড। (৩) গোলখালী মোড়ল বাড়ি জামে মসজিদ, স্থাপিত- ২০০০ খ্রিঃ। এ মসজিদটি ও পাকা টিন সেড।

          গোলখালী গ্রামে দোতলা বিশিষ্ট একটি সুন্দর মনোরম সাইক্লোন সেন্টার রয়েছে। কারিতাস কর্তৃক নির্মিত World Vision of Bangladesh এ সাইক্লোন সেন্টারে বিভিন্ন দূর্যোগের সময় সবাই আশ্রয় নেয়। এটি দূর্যোগের সময় আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হলেও অন্যান্য সময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এ আশ্রয় কেন্দ্রটি ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে স্থাপিত হয়। আইলার পর থেকে গোলখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পরিত্যক্ত হওয়ায় সেখান থেকে উক্ত বিদ্যালয়ের কার্যক্রম এখানেই পরিচালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে এ সাইক্লোন সেন্টরের নিচ তলায় ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস চলে।

          গোলখালী গ্রামে একটি সরকারি পুকুর আছে। এ পুকুরটি ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দে খনন করা হয়। সরকারি পুকুরের জন্য জমি বরাদ্দ ছিল ২.০০ (দুই একর) এ পুকুরের পানি ছিল খুব মিষ্ট ও সুস্বাদু। কয়রার বিভিন্ন এলাকায় প্রথম জন বসতির পর যখন সুপেয় পানির অভাব ছিল তখন জেলা বোর্ডের মাধ্যমে এ সমস্ত এলাকায় এই পুকুর খনন করা হয় ।  এ সব সরকারি পুকুরের পানি পান করে লোকেরা জল কষ্ঠ নিবারন করতো। কিন্তু সর্বনাশা আইলায় লবণ পানি ঢুকে এতদাঞ্চলের পুকুরের সু মিষ্ট পানি নষ্ট করে দিয়েছে।

          পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, গোলকালি গ্রামটি আড়পাঙ্গাসিয়া নদীর ধারে অবস্থিত। গ্রামের দক্ষিণ দিকে অর্থাৎ আড়পাঙ্গাসিয়া নদীর বিশাল চরে একটি বনের সৃষ্টি হয়েছে। এ বনের দৈর্ঘ্য প্রায় আড়াই কিঃমিঃ। এ বিশাল বনের নাম ‘শিংহের বন’। কেউ কেউ বলে শিং এর ট্যাক, শিং এর চর ও বলে। এখানে শাকবাড়িয়া ও আড়পাঙ্গাসিয়া এই দুই নদীর মাঝখানের নদীটির নামা শিংলা নদী। আর এই শিংলা নদীর চরে বন সৃস্টি হওয়ায় এর নাম করণ করা হয়েছে শিংয়ের ব। নদীর চরে এ বিশাল বনে সুন্দরবনের বহু প্রজাতির বৃক্ষাদি আছে। যেমন, কেওড়া, বাইন, গেওয়া, গোল পাতা সহ রয়েছে অন্যান্য বৃক্ষ লতা। বনটি বেশ চমৎকার। সুন্দরবনের তুলনয়ূ এ বনটি ও বেশ দৃশ্যমান। এ বনের পাশ দিয়ে বষ্টনী দ্বারা এখানে বন্য প্রাণি বাঘ, হরিণ, বানর ইত্যাদি পালন পূর্বক বনটি সংস্কার করলে একটি অপূর্ব সুন্দর দর্শনীয় স্থান হিসেবে গড়ে উঠবে। আর তাতে সরকারের রাজস্ব আয় ও বাড়বে।

          এ গ্রামের সমিতিঃ (১) গোলখালী কৃষি সমবায় সমিতি লিঃ। রেজিঃ নং- ১১০ কে, ১৬/০৩/২০০২। (২) গোলখালী লায়ন যুব সমবায় সমিতি লিঃ। রেজিঃ নং- ১২ কে, ০৪/০২/২০০১।

৭) মাটিয়া ভাঙ্গা গ্রামঃ

          গোলখালী গ্রামটি দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অর্থাৎ আড়পাঙ্গাসিয়া ও কপোতাক্ষ নদের মোহনায় অবস্থিত। এ গ্রামের নাম করণ সম্বন্ধে যা জানা যায় তা হলো, গ্রামটি দুই নদীর মোহনায় অবস্থিত। ফলে দুই নদীর গভীর খর স্রোতের কবলে পড়ে গ্রামের মাটি ভেঙে নদীতে যায়। বার বার এ মাটি ভাঙার কারণে গ্রামের নাম করণ করা হয় মাটিয়া ভাঙ্গা গ্রাম।

গ্রামটি ছোট। এখানে মোট লোক সংখ্যা ১০৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫৩৭ জন এবং মহিলা ৫০৩ জন। ভোটার সংখ্যা মোট ৬২৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩১০ জন এবং মহিলা ৩১৮ জন। গ্রামের লোক সংখ্যার মধ্যে প্রায় সব মুসলমান।

এ গ্রামে রয়েছে (১) কোবাদক ফরেষ্ট ষ্টেশন (অফিস)। কপোতাক্ষ থেকে কোবাদক নাম করণ হয়েছে। যদি ও এ ফরেষ্ট ষ্টেশনটি কয়রা উপজেলায় তবুও এটি সাতক্ষীরা বন রেঞ্জের অধীনে। এই ফরেষ্ট ষ্টেশন অফিসটি স্থাপিত ১৯৪৫ খ্রিঃ। এ ফরেষ্ট অফিসের দক্ষিণ পাশে নদীর চরে একটি কেওড়া বন আছে। এ কেওড়া বনে বিকাল থেকে বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আগমন শুরু হয়। এত বিপুল পরিমাণ পাখি এই বনে বসে যে, সমস্ত সবুজ কেওড়া বন সাদা হয়ে যায়। পাখির কিচির মিচির শব্দে কানে তালা লাগার উপক্রম হয়ে যায়। এ সমস্ত পাখির মধ্যে বক, শালিক, শঙ্কল, পানকৌড়ে, মাছ-রাঙা, ঘুঘু, টিয়া ইত্যাদি। তবে এর মধ্যে অধিকাংশ পাখি বক জাতীয়।

এ জায়গাটি খুব মনোরম। ফরেষ্ট অফিসের দক্ষিণ পাশ দিয়ে বয়ে গেছে ভীষণ খর স্রোতা বিশাল নদী আড়পাঙ্গাসিয়া। আর এর সামনে বা পশ্চিম পাশ দিয়ে বয়ে গেছে কপোতাক্ষ ন

এই ফরেষ্ট অফিসের সাথে রয়েছে (১) কোবাদক ফরেষ্ট ষ্টেশন জামে মসজিদ, স্থাপিত- ১৯৮১ খ্রিঃ। উক্ত মসজিদটি পাকা।

৮) ঘড়িলাল গ্রামঃ

          ঘড়িলাল গ্রামটি দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের পশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত। গ্রামের পশ্চিম পাশেই কপোতাক্ষ নদ। ঘড়িলাল গ্রামের নাম করণ সম্পর্কে জানা যায় যে, এ গ্রামটি নদীর পাশেই অবস্থিত। এখানে এক সময় খুব জঙ্গল ছিল। তাছাড়া নদীর চরে জঙ্গল থাকাটাই স্বাভাবিক। কাজেই এ চরে তখন কুমীরের ন্যায় এক প্রজাতির ঘড়িয়াল বাস করতো প্রচুর। এই ঘড়িয়াল থেকে পরবর্তীতে গ্রামের নাম করণ হয়েছে ঘড়িলাল। অর্থাৎ ঘড়িয়াল হয়েছে ঘড়িলাল।

          ঘড়িলাল গ্রামের লোক সংখ্যা ১৬৫১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮৪৫ জন এবং মহিলা ৮০৬ জন। ভোটার সংখ্যা মোট ৯৬৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৪৭৮ জন এবং মহিলা ৪৮৬ জন। গ্রামের লোক সংখ্যার মধ্যে বেশীর ভাগ মুসলমান।

          এ গ্রামে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। তবে কয়েকটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ গুলোর মধ্যে মসজিদ (১) ঘড়িলাল বায়তুল মামুর জামে মসজিদ, স্থাপিত- ১৯৯৪ খ্রিঃ। এ মসজিদটি পাকা টিন সেড। (২) ঘড়িলাল খাঁ বাড়ি জামে মসজিদ, স্থাপিত- ১৯৯৭ খ্রিঃ। উক্ত মসজিদটি একতলা ভবন।

          এখানে আর রয়েছে ঘড়িলাল আহম্মাদিয়া উপাসনালয়, স্থাপিত- ১৯৯১ খ্রিঃ, এটি পাকা টিন সেড। মন্দির যথাঃ ১) ঘড়িলাল সার্বজনীন হরি মন্দির স্থাপিত- ১৯৩৫খ্রিঃ ২) ঘড়িলাল সার্বজনীন কালী মন্দির স্থাপিত- ১৯৪০খ্রিঃ। উক্ত মন্দির দুটি কাঁচা।

          এ গ্রামে প্রায় দুই শতাধিক আহম্মাদিয়া সম্প্রদায়ের লোক বসবাস করে।

 

          এ গ্রামের সমিতিঃ (১) ঘড়িলাল বহুমুখী সমবায় সমিতি লিঃ। রেজিঃ নং- ৬৭ কে, ২৪/০৮/১৯৯৯।

৯) চরামুখা গ্রামঃ

          দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের পশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত চরামুখা গ্রাম। গ্রামটি উত্তর দক্ষিণ বরাবর। গ্রামের নাম করণ সম্বন্ধে জানা যায় যে, এ গ্রামের পশ্চিম পাশ দিয়ে প্রবাহিত কপোতাক্ষ নদ। এ গ্রামের পাশেই নদের মুখে চর পড়ায় সেই অনুসারে এই গ্রামের নাম করণ হয়েছে চরামুখা। অর্থাৎ চর থেকে চরা এবং মুখ থেকে মুখা। গ্রামের নাম চরামুখা।

          গ্রামের লোক সংখ্যা ১০৯৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৫৮৯ জন এবং মহিলা ৫০৭ জন। ভোটার সংখ্যা মোট ৬৫০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩২৪ জন এবং মহিলা ৩২৬ জন। গ্রামের লোক সংখ্যার মধ্যে বেশীর ভাগ হিন্দু।

          এ গ্রামে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। তবে এখানে কয়েকটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে (১) চরামুখা মুন্সিপাড়া জামে মসজিদ, স্থাপিত- ১৯৩৮ খ্রিঃ। (২) চরামুখা বায়তুল মামুর জামে মসজিদ, স্থাপিত- ১৯৮০ খ্রিঃ। উক্ত মসজিদ দুটো পাকা টিন সেড।

          মন্দিরঃ (১) চরামুখা সার্বজনীন হরি মন্দির, স্থাপিত- ১৯১৫ খ্রিঃ। এ মন্দিরটি পাকা। (২) চরামুখা সার্বজনীন কালী মন্দির, স্থাপিত- ১৯০৫ খ্রিঃ। মন্দিরটি পাকা টিন সেড। (৩) চরামুখা সার্বজনীন দূর্গা মন্দির, স্থাপিত- ১৯৯৪ খ্রিঃ। মন্দিরটি ও পাকা টিন সেড। (৪) চরামুখা সার্বজনীন বন বিবি মন্দির, স্থাপিত- ১৯১২ খ্রিঃ। এ মন্দিরটি পাকা। এখানে প্রতি বছর ১ মাঘে মেলা হয়। এ মেলাটি মধু মাঝির মেলা নামে পরিচিত। এখানে প্রতি বছর খুব জাঁক-জকম পূর্ণ ভাবে মেলা হয়। আইলায় এ গ্রামের পাশ দিয়ে নদী ভাঙন হওয়ায় আপাতত মেলাটি বন্ধ।

          চরামুখা গ্রামে একটি পোষ্ট অফিস আছে। এ পোষ্ট অফিসটি স্থাপিত- ১৯৬৭ খিস্টাব্দ।

 

১০) মেদের চর গ্রামঃ

          মেদের চর নামক গ্রামটি চরামুখা গ্রামের পাশেই অবস্থিত। ছোট একটি গ্রাম। মেদের চর গ্রামের নাম করণে জানা যায়, ‘মেদে’ অর্থ নির্জীব বা নিস্তেজ। অর্থাৎ যে চরটি নিস্তেজ। সেখানে স্রোতের গতিগীন। সেই মেদের চর থেকে এ গ্রামের নাম করণ। কেননা এ গ্রামটি এই চরেই অবিস্থত।

          গ্রামের লোক সংখ্যা মোট ৫৪৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২৬২ জন এবং মহিলা ২৮৭ জন। এ গ্রামের অধিকাংশ লোক হিন্দু। ভোটার সংখ্যা- ৩৯৭জন। এর মধ্যে পুরুষ-১৮৬ জন এবং মহিলা ২১১জন।

          এ গ্রামে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নেই। রয়েছে মাত্র কয়েকটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে মসজিদ যথা, (১) মেদের চর জামে মসজিদ, স্থাপিত- ১৯৯০ খ্রিঃ। মসজিদটি কাঁচা।

মন্দিরঃ (১) মেদের চর সার্বজনীন হরি মন্দির, স্থাপিত- ২০০১ খ্রিঃ। মন্দিরটি কাঁচা। (২) চরামুখা মেদের চর সার্বজনীন কালী মন্দির, স্থাপিত- ২০০২ খ্রিঃ। মন্দিরটি কাঁচা।

১১) হলুদ বুনিয়া গ্রামঃ

          দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের মধ্যে হলুদ বুনিয়া একটি ছোট্র গ্রাম। চরামুখা গ্রামের উত্তরে অবস্থিত এ গ্রামটি। উত্তর-দক্ষিণ লম্বা। এ গ্রামের নাম করণের ক্ষেত্রে জানা যায় এ গ্রামের অধিকাংশ লোক কৃষক। তারা কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে। আর তাদের মধ্যে বেশীরভাগ লোক হলুদ বুনতো বা হলুদের চাষ করতো। সেই হলুদ বোনা থেকে পরবর্তীতে গ্রামের নাম করণ করা হয়েছে হলুদবুনিয়া গ্রাম।

          গ্রামের লোক সংখ্যা মোট ৭০১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৩৬৭ জন এবং মহিলা- ৩৩৪ জন। ভোটার সংখ্যা ৪৩৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ- ২০৯জন এবং মহিলা ২২৬ জন। গ্রামটি মুসলিম অধ্যুষিত।

          এ গ্রামে রয়েছে শুধু মাত্র (১) হলুদবুনিয়া জামে মসজিদ, স্থাপিত- ১৯৯৪ খ্রিঃ। মসজিদটি পাকা।

 

১২) বীনা পানি গ্রামঃ

          পাতাখালী গ্রামের উত্তরে অবস্থিত বীনা পানি গ্রাম। এ গ্রামের পূর্বে নাম ছিল বেদকাশী ৫নং গ্রাম। কিন্তু ১৯৭২ খ্রিস্টাব্দে উক্ত গ্রামের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বীনা পানি গ্রাম। যেহেতু এ গ্রামটি দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের মধ্যে একমাত্র হিন্দু অধ্যুষিত গ্রাম। যেখানে কোন মুসলমানের বসবাস নেই। আর এই সম্পুর্ণ হিন্দু সম্প্রদায়ের বসবাসকারী গ্রাম হেতু এর নাম করণ হয়েছে হিন্দুদের বিদ্যার অধিষ্ঠাত্রী দেবী স্বরসতীর নামে। ‘বীনা’ অর্থ বাঁশি আর পানি অর্থ হাত অর্থাৎ যার হাতে বাঁশি। এখানে উল্লেখ্য যে, স্বরসতীর হাতে বাঁশি দেখতে পাই। তিনি রাজ হংসের পিঠের উপর বসে পদ্মফুলের উপর পা রেখে হাতে বীনা বা বাঁশি নিয়ে আছেন। যাহোক হিন্দু ধর্মের বিদ্যার দেবীর নামে এ গ্রামের নাম করণ করা হয়। গ্রামটি দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের উত্তর সীমানায় অবস্থিত। এ গ্রামটি পূর্ব-পশ্চিমে লম্ব। গ্রামের পূর্ব মাথায় শাকবাড়িয়া নদী।

          গ্রামের লোক সংখ্যা মোট ১৩৯৪ জন। এর মধ্য পুরুষ ৬৯৯ জন এবং মহিলা ৬৯৫ জন। ভোটার সংখ্যা মোট ৯৪২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৪৫৯ জন এবং মহিলা ৪৮৩ জন।

          এ গ্রামে রয়েছে (১) বীনা পানি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, স্থাপিত- ১৯৭৩ খ্রিঃ। এ বিদ্যালয়টি একতরা পাকা ভবন। (২) দক্ষিণ বেদকাশী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, স্থাপিত- ২০০২ খ্রিঃ। বিদ্যালয়টি কাঁচা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দুটি গ্রামের দুই মাথায় অবস্থিত।

          মন্দিরঃ (১) বীণাপানি সার্বজনীন কালী মন্দির, স্থাপিত- ১৯২০ খ্রিঃ। মন্দিরটি পাকা টিন সেড। (২) বীনা পানি সার্বজনীন আদি বাসন্তি মন্দির, স্থাপিত- ১৯৭৬ খ্রিঃ। এ মন্দিরটি পাকা টিন সেড। (৩) বীনা পানি সার্বজনীন রাধা কৃষ্ণ মন্দির, স্থাপিত- ১৯৯৫ খ্রিঃ।  এ মন্দিরটি পাকা টিন সেড। (৪) বীনা পানি সার্বজনীন হরি মন্দির, স্থাপিত- ১৯২৫ খ্রিঃ। এ মন্দিরটি ও পাকা টিন সেড। (৫) বীনা পানি সার্ব জনীন শিব মন্দির, স্থাপিত-২০০৩ খ্রিঃ। এ মন্দিরটি ও পাকা টিন সেড। সংক্ষিপ্ত....


Share with :

Facebook Twitter